National


হায়দরাবাদ এনকাউন্টারের নিয়ে প্রশ্ন বিজেপি নেতা চন্দ্রকুমার বোসের

শুক্রবার ভোরে হায়দরাবাদে ধর্ষণ ও খুনে অভিযুক্তদের এনকাউন্টার করে পুলিশ। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, যখন ঘটনা পুনর্নিমাণের জন্য অভিযুক্তদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয় তখনই সেখানে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে চার অভিযুক্তের। পুলিশ জানিয়েছে, তারা পালানোর চেষ্টা করছিল। তখনই তাদের গুলি করা হয়।

এ নিয়ে ইতিমধ্যেই সমাজের বিভিন্ন মানুষ নানান প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তবে একদিকে যেমন সকলে পুলিশের এই কাজকে ধন্যবাদ জানিয়েছে, অন্যদিকে তেমনই পুলিশের এই কাজ নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে।

এই এনকাউন্টারের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করেছেন রাজ্য বিজেপি নেতা চন্দ্র কুমার বোস। তিনি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া-র অ্যাকাউন্টে লেখেন, ” ভয়াবহ ঘটনা। তেলেঙ্গানা ধর্ষণ কাণ্ডে চার অভিযুক্তই পুলিশের গুলিতে মৃত। পুলিশ কীভাবে এমন কাজ করতে পারে?” তিনি লেখেন, “ধর্ষকদের অবশ্যই আইনের আওতায় শাস্তি দেওয়া উচিৎ, কিন্তু সেটি এইভাবে নয়। এখনও কারোও দোষ প্রমাণিত হয়নি। আমরা কীভাবে নিশ্চিত হতে পারি, যে এরাই সেই দুর্বিত্ত।”

তাঁর এই মন্তব্যের পরেই ঝড় ওঠে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনেকেই তাঁর এই প্রতিক্রিয়ার কড়া সমালোচনা করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায় তুলোধনা করা হয় চন্দ্র কুমার বোসকে। অন্যদিকে বিজেপি নেত্রী লকেট চ্যাটার্জী অবশ্য বলেছেন এনকাউন্টারের পক্ষেই। তিনি জানান, সকালে উঠে খবরটা শুনে খুবই ভালো লেগেছে। অন্ততপক্ষে মেয়েটার আত্মা শান্তি পেয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

হায়দরাবাদের ধর্ষণে অভিযুক্তদের এনকাউন্টার প্রসঙ্গে সেই পশু চিকিৎসক তরুণীর বাবা প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বলেছেন, অবশেষে আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পেল। তেলেঙ্গানা পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। তরুণীর বোন বলেন, ‘একটা উদাহরণ হয়ে থাকবে।’

ওই তরুণীকে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় উত্তাল হয় সংসদের উভয়কক্ষ। সোমবার রাজ্যসভায় নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ তথা অভিনেত্রী জয়া বচ্চন। তিনি বলেন, ধর্ষকদের আমজনতার হাতে তুলে দেওয়া হোক। মানুষই ওদের পিটিয়ে প্রকাশ্যে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিক। জয়ার সেই দাবিকে সমর্থন করেছেন এরাজ্যের তৃণমূল সাংসদ মিমি চক্রবর্তী, বিজেপি এমপি রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ও।

Related Articles

Comments